স্পাইনাল রোগের সমগ্র স্পেকট্রাম সহ সমস্ত স্তরের মানুষের জন্য চিকিৎসার সুবিধা নিয়ে এসেছে মণিপাল হাসপাতাল

শরীর-স্বাস্থ্য

HNExpress নিজস্ব প্রতিনিধি : মেরুদণ্ড, যা শিরদাঁড়া নামেও পরিচিত, সেটা মানবদেহের মূল কাঠামো গঠনে সাহায্য করে। এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্পাইনাল কর্ড বা সুষুম্মাকান্ড, যেটি মস্তিষ্ক এবং শরীরের বাকি অংশের মধ্যে বার্তা প্রেরণ করে, তাকে সুরক্ষিত রাখে। এহেন মেরুদণ্ডে আঘাত লাগলে মানবদেহে স্থায়ী অক্ষমতা হতে পারে, যার ফলে মানুষকে তার বাকি জীবন হুইলচেয়ারে, শয্যাশায়ী/অচল অবস্থায় কাটাতে হতে পারে। এমনকি দৈহিক ক্ষতির তীব্রতার উপর নির্ভর করে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। জটিল ধরণের মেরুদণ্ডের পাশাপাশি তার খারাপ অবস্থা স্পাইনাল কর্ড-এর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে । সেকারণেই মেরুদণ্ডের চিকিৎসার জন্য একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি পদ্ধতির চিকিৎসা প্রয়োজন। মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করে মেরুদণ্ডের বিকৃতিকে সংশোধন করা যায়, অনবস্থিত মেরুদণ্ডকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে এসে স্পাইনাল কর্ড ও স্পাইনাল নার্ভ-এর ওপরে থাকা চাপকে উপশম করা সম্ভব হয়।

apploadyou

ব্যাঙ্গালোরের ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মণিপাল হাসপাতালের মণিপাল স্পাইন কেয়ার সেন্টারটি এখন টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মেরুদণ্ডের রোগের বিস্তৃত স্পেকট্রাম সহ লক্ষ লক্ষ রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি অগ্রণী উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে। এই স্পাইন কেয়ার সেন্টারটি প্রোটোকল-চালিত এবং এর লক্ষ্য হল সাশ্রয়ী খরচে সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করা, তা সে নন-অপারেটিভ চিকিৎসাই হোক বা উন্নত প্রযুক্তিগত সাহায্যে উন্নত মানের মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার। এই চিকিৎসা পদ্ধতি কেবলমাত্র দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সাফল্যকেই নিশ্চিত করে তোলে না বরং এই চিকিৎসা পদ্ধতির সাফল্য বর্তমান সময়ের নিরিখে প্রামাণ্য। ব্যাঙ্গালোরের ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মণিপাল হাসপাতালের মণিপাল স্পাইন কেয়ার সেন্টারের এইচওডি ও কনসালটেন্ট- স্পাইন সার্জারি ডাঃ এস বিদ্যাধারা ২০০৮ সালে মণিপাল হাসপাতালের স্পাইন কেয়ার সেন্টারের (ভারতে এই ধরণের প্রথম চিকিৎসাকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মেরুদণ্ডের চিকিৎসা ও সেইসঙ্গে দুর্দান্ত সব অস্ত্রোপচার করে আসছেন। সেই সময় থেকে সারা বিশ্বের জটিল মেরুদণ্ডের রোগে আক্রান্ত অসংখ্য রোগীকে আন্তর্জাতিক মানের সমতুল চিকিৎসা দিয়ে রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়ে আসছেন।

smoothiediet

এবিষয়ে নিজের অভিমত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, ডাঃ এস বিদ্যাধারা বলেন, “গত ১৫ বছরে, আমরা সমস্ত বয়সের রোগীদের (শিশু থেকে ১০০+ বছর বয়সী পর্যন্ত বয়স্কদের) চিকিৎসা করেছি। আমাদের সাফল্যের হার ৯৯%-এর বেশি। আমরা এখনও পর্যন্ত ১২,৮৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করেছি। সেক্ষেত্রে মেরুদন্ডের স্পাইনাল ক্যানেলের সমস্যা বা ইন্ট্রা-স্পাইনাল কর্ড সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমাদের চিকিৎসায় এই ধরণের কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। কারন, আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে মাল্টি-মডিউল নিউরো-মনিটরিং এবং নিউরো-নেভিগেশন সহ অত্যাধুনিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটিং রুম রয়েছে। সেখানে মেরুদণ্ডের সমস্ত রকমের অস্ত্রোপচারকে নিরাপদে ও সুরক্ষিতভাবে করার জন্য যে সুবিধাগুলি পাওয়া যায় এবং চিকিৎসার যে ফলাফলগুলি পাওয়া যায়, সেটা বিশ্বের যে কোনও উৎকর্ষ কেন্দ্রের সমান।”

Custom Keto Diet

এক দশকেরও বেশি সময় আগে ১৫ বছর বয়সী রোগী সুচন্দা ঘোষালের গুরুতর ও জটিল থোরাসোলাম্বার কিফোস্কোলিওসিসের (পিঠে কুঁজ) চিকিৎসার জন্য অপারেশন করেছিলেন ডাঃ এস বিদ্যাধারা। এহেন সুচন্দা বর্তমানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে দুই সন্তানের জন্ম দিয়ে সুখে সংসার করছেন। ওই রোগীকে যথাযথ উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল যা তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফায়ার আসতে সাহায্য করেছিল। এত বড় মেরুদণ্ডের বিকৃতি সংশোধনের মত অস্ত্রোপচারের পর কোনও রকম বিরতি না দিয়েই সুচন্দা সাফল্যের সঙ্গে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। এই চিকিৎসার ফলাফলগুলি এতটাই অপ্রতিরোধ্য এবং রোগীর পরিবার এই হাসপাতালে চিকিৎসার প্রতি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে কয়েক বছর আগে যখন সুচন্দার মা`র মেরুদন্ডের হাড়ের টিউমারের কারণে কোয়াড্রিপ্লেজিয়া (হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত) তৈরি হয়েছিল, তখন তাঁরা একই হাসপাতালে একই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করানোটা বেছে নিয়েছিলেন। সেইক্ষেত্রেও মায়ের স্পাইনাল কর্ড ডিকম্প্রেশন সহ অপারেশন সফলভাবে করা হয়েছে এবং তিনি এখন তার স্বাভাবিক হাত ও পা ফিরে পেয়েছেন।

buildpenis

মেরুদন্ডের বিকৃতির অস্ত্রোপচারে, রোগীদের অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘন্টার মধ্যে সচল হতে (হাঁটতে) উৎসাহিত করা হয় এবং তারা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। “এখানে একজন ছাত্রের স্কোলিওসিস বিকৃতি সংশোধনের জন্য প্রধানত এই বিষয়ের ওপরে জোর দেওয়া হয়, যেন অস্ত্রোপচারের কারণে ওই ছাত্রটির কোনও শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে আমরা স্কুল ছুটির সময় বা উৎসবের ছুটিতে অস্ত্রোপচার করি। গুরুতর মেরুদণ্ডের রোগে আক্রান্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে, আমাদের এনজিও, মণিপাল ফাউন্ডেশন আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই সমস্ত ক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক পটভূমির নিরিখে দরিদ্র পরিবারগুলি যদি তাদের অস্ত্রোপচারের জন্য সাহায্য চায় এবং যদি তাদের কাছে পরিবারের বিপিএল/নিম্ন আয়ের অবস্থা প্রমাণ করার জন্য উপযুক্ত ডকুমেন্টেশন থাকে, তাহলে তারা এই আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।” বললেন চিকিৎসক এস বিদ্যাধারা।

শ্রীমতি ছন্দা চক্রবর্তী কলকাতার একজন চা-দোকানের মালিক যিনি ব্যাঙ্গালোরে এসেছিলেন এবং ১২ বছর আগে তাঁর মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করেছিলেন৷ বর্তমানে তিনি শুধু সুস্থই নয়, অস্ত্রোপচারের মাত্র এক মাস পরেই নিজের স্বাভাবিক কাজে ফিরেছেন এবং এখনও তিনি তাঁর চায়ের দোকানে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও এই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘ সময় ধরে এই চিকিৎসা পদ্ধতির ইতিবাচক ফলাফল থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

Custom Keto Diet

৭-৮ বছর আগে রাখি নামে একজন অবিবাহিত মেয়ে মেরুদণ্ডের হাড় থেকে উৎপন্ন একটি টিউমার-এর সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে এসেছিলেন। এখানে উপযুক্ত চিকিৎসায় টিউমারের সম্পূর্ণ রিসেকশন এবং হাড়-কে স্থিতাবস্থায় আনার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরের দিনই তাঁকে তাঁর পায়ে দাঁড় করানো হয় এবং অস্ত্রোপচারের একমাস পর থেকে তিনি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তাঁর স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেন। ৭-৮ বছর আগেকার এই অস্ত্রোপচারের ঘটনার পর বর্তমানে তিনি ভালভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। সুতরাং, মেরুদন্ডের যেকোনও সমস্যার মূল বিষয় হল, চিকিৎসা উপযুক্ত, সূক্ষ্ম এবং সময়মত করতে হবে, তাহলেই ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সফলভাবে মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করা রোগীরা অন্যদের মত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। যদিও ক্ষত সংক্রমণ, পুনরায় অস্ত্রোপচার ইত্যাদির মতো ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে, তাহলেও আজকের দুনিয়ায় মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারে প্যারালাইসিসের ঝুঁকি অত্যন্তই নগণ্য। যদি মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারগুলি সফলভাবে করা যায় এবং অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে যদি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সহ এবং নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং সর্বোপরি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অস্ত্রোপচার করা হলে সেই অস্ত্রোপচারগুলি একটি তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি এনে দেয়।