কাঁচরাপাড়ায় সাংবাদিক নিগ্ৰহের প্রতিবাদ

ওয়েব ডেস্ক জেলা

HNExpress ওয়েব ডেস্ক , কাঁচরাপাড়া : আজ ১৯শে আগস্ট, সাংবাদিক নিগ্ৰহের প্রতিবাদে এক নতুন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হল কাঁচরাপাড়ার মানুষ। এক দীর্ঘ মৌনমিছিল রাষ্ট্রশক্তি এবং তার আশ্রয় পুষ্ট সমাজবিরোধীদের ধিক্কার জানিয়ে
হালিশহর বাগমোড় থেকে কবিগুরু রবীন্দ্র পথ ধরে গান্ধী মোড় হয়ে লেনিন সরণি ধরে থানার মোড় পর্যন্ত পরিক্রমা করে। মিছিলের উদ্দেশ্য,মিছিলের কারণ সম্বন্ধে বিশদ বক্তব্য রাখেন এপিডিআর সম্পাদক জয়গোপাল দে,খবরের কলরবের সম্পাদক পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং সংবাদকর্মী তমাল সাহা। বিভিন্নভাবে কাঁচরাপাড়ার সামাজিক পরিস্থিতিকে ধ্বংসের
পর্যায়ে নামিয়ে এসেছে রাষ্ট্র শক্তির আশ্রয়পুষ্ট লুম্পেনরা,তা বিশদভাবে তুলে ধরেন। রঞ্জন ভরদ্বাজের মত সাহসী সংবাদকর্মীর ভূমিকা তুলে ধরে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন কাঁচরাপাড়ায় এধরনের অসামাজিক কাজকর্ম চলতে তারা কিছুতেই দেবেন না। রাষ্ট্রীয় লুম্পেনদের হাতে কাঁচরাপাড়ার যে চিরাচরিত ঐতিহ্য সেটা নষ্ট হতে দেবেন না। আজই কেন এই মিছিল সে বিষয়ে বিশদ বলেন সংবাদকর্মী ‘অবতক’-এর প্রতিনিধি তমাল সাহা‌। তিনি গান্ধিজির আগমনের কারণ এই বিশেষ দিনটিতে এবং তিনি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন,শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে সেই উদ্দেশ্যটি ব্যক্ত করে বলেন,আজকে তারাও কাঁচরাপাড়ার শান্তি চান। জাতির জনক গান্ধিজির আগমনের ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তারা আজকে এই ঐতিহাসিক মিছিলের আয়োজন করেছেন। আজকের মিছিলে সামিল হয়েছিলেন এলাকার সংবাদকর্মীরা তো বটেই, তাদের পাশে যে মানবাধিকার সংগঠন, বিজ্ঞান সংগঠন, অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনরাও যে রয়েছে তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়ার জন্য তারা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি দীর্ঘ মিছিল ছিল। পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে মিছিলটিকে নিয়ে যায়। বাগমোড়ে বক্তব্য রাখেন সংবাদপত্রের কর্মীরা ও বিভিন্ন বক্তারা,তেমনি বক্তব্য রাখেন গান্ধী মোড়ে,তেমনই বক্তব্য রাখেন থানার মোড়ে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা পুলিশ প্রশাসনকেও সচেতন এবং সজাগ করে দিয়েছেন। বক্তব্য রাখেন
কবি, সাহিত্যিকদের পক্ষ থেকে রণজয় মালাকার, বক্তব্য রাখেন ‘এইকাল’ পত্রিকার সম্পাদক শোভন রাহা। তিনি বিশদভাবে পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন এবং এই তদন্তটি যাতে যথাযথভাবে হয় সেকথা প্রশাসনকে জানিয়ে দেন। এপিডিআর সম্পাদক জয়গোপাল দে জানিয়ে দেন যে প্রশাসন যদি এখনই সমাজবিরোধীদের দমন না করেন,তাদের প্রতি দৃঢ়হস্ত না হন তাহলে এই আন্দোলনকে তারা প্রতিবাদের মধ্যে রাখবেন না,প্রতিরোধের
পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, এই বলে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপর এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সেই কথা বক্তারা বারবার জানিয়ে দেন। পুলিশ প্রশাসন কি করতে পারে, সংবাদকর্মীদের কি ভূমিকা সে বিষয়ে বক্তব্য রাখেন স্পোর্টসম্যান এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভার উত্তোলক দীনবন্ধু দাস।
এদিন আক্রান্ত খুদে সাংবাদকর্মী, যিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন তিনি কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন সে ঘটনাটি বিশদভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেন এবং তিনি শপথ করেন যে যতই আঘাত আসুক,যতই তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত হোক তিনি তাঁর কর্তব্য থেকে এক পাও নড়বেন না। জনস্বার্থে সঠিক সংবাদটি তিনি পরিবেশন করে যাবেন। তিনি কোন হুমকির কাছে মাথা নত করছেন না। অন্যদিকে ‘ঠিক সময়’ পত্রিকার সম্পাদিকা কাজল বিশ্বাস যিনি ইতিপূর্বে ১৪ই জুলাই দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনিও তাঁর আক্রমণের ঘটনাটি বিশদভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

apploadyou