কলকাতা অ্যাপেলো চালু করল কম্প্রিহেনসিভ থ্যালাসেমিয়া ক্লিনিক

শরীর-স্বাস্থ্য

সপ্তর্ষি সিংহ, কলকাতা ঃ আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। আর এই দিনে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতার এক বেসরকারী হাসপাতাল অ্যাপেলো গ্লেনিগ্যালসের নিজস্ব হাসপাতালে চালু করল কম্প্রিহেনসিভ থ্যালাসেমিয়া ক্লিনিক। আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানান হয়, এবার থেকে এখানে একই ছাদের তলায় থ্যালাসেমিয়া রেগীরা রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা ও পরামর্শ পাবে। ক্রমশ থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রভাব দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ জানিয়েছে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়া ভারতে সব থেকে বেশি এবং এই সংখ্যাটা পশ্চিমবঙ্গে আরো প্রভাব ফেলেছে। প্রতি বছর থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে প্রায় ১০ হাজার শিশু। এই রোগীদের জন্য বছরে ২ মিলিয়ন প্যাক রক্তকনিকা প্রয়োজন। আজ এই শীর্ষক এক আলোচনায় রোগের নিয়ামতা বিষয়ে আলোকপাত করেন ডাঃ সৌম্য ভট্টাচার্য,ডাঃ অনুপম চক্রপানি,ডাঃ শিল্পা ভারতী,ডাঃ সুদীপ্ত শেখর দাস। হেমাটো অঙ্কোলজিস্ট অনুপম চক্রপানি বলেন এটা এমন এক রোগ যে যতক্ষণ না অস্হিমজ্জা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাচ্ছে ততক্ষণ এই রোগ নিরাময়ের কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশে যত রোগীর থ্যালাসেমিয়া হয় তার শতকরা মাত্র ১ ভাগ রোগী অস্হিমজ্জা পরিবর্তন ব্যয় বহুল বিষয়। চিকিৎসক শিল্পা ভারতী জানান অস্হি মেরু পরিবর্তন নিঃসন্দেহে এক খরচ বহুল বিষয়। কিন্তু একজন রোগী পিছু বাৎসরিক রক্ত পরিবর্তনের খরচের বিষয় চিন্তা করলে অস্হিমজ্জা পরিবর্তন করে নেওয়া যুক্তিযোগ্য। ওঙ্কোলজিস্ট ডাঃ সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন ইটালী ও গ্রীক দেশ মূলত এই রোগের আবিষ্কারক, কিন্তু বর্তমানে সেখানকার অনেক দেশ এই রোগের ভয়াবহতা থেকে মূক্ত। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এখানে যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহনের অভাবে এই সংখ্যা উর্ধ্বমূখী। ডাঃ সুদীপ্তশেখর দাস বলেন একমাত্র এই হসপিটালে এক ছাদের তলায় থ্যালাসেমিয়া রোগীরা সব ধরনের পরিষেবা পাবেন যা অন্য কোথাও এই মুহুর্তে নেই। এই হসপিটালের ব্লাড ব্যাঙ্ককেই একমাত্র রোগীদের প্রয়োজন মত লোহিত রক্তকনিকা উপলব্ধ।

apploadyou