নিজস্ব প্রতিনিধি, মধ্যমগ্রাম : সঙ্গীতাঙ্গন। নামের মধ্যেই রয়েছে তার সৃজনশীলতা, আন্তরিকতা ও মাধুর্য। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বঙ্কিম পল্লীতে অবস্থিত এই সুপ্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও স্থানীয় অগ্রদূত সংঘের মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দশম বর্ষের সারা বাংলা বাউল ও শ্যামা সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। শ্যামা সঙ্গীত প্রতিযোগীদের এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল শিল্পীদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়াও বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। শ্যামা সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে অনুষ্কা ঘোষ, পায়েল দে এবং সায়ন্তনী সেন।
‘খ’ বিভাগের তিনজন বিজেতা হলেন সুপ্রীতিকুমার চক্রবর্তী, মিহির পাল এবং মৌসুমী দে মিত্র। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ এবং গুনীজন সম্বর্ধনা। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি, বসিরহাট থেকে প্রায় ৩০জন বাউল শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্টান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবাশিস দত্ত, সহকারী প্রকাশনা আধিকারিক প্রসেনজিৎ মন্ডল, সুদূর নিউ ইয়র্ক থেকে আগত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুল ইসলাম, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত জাতীয় শিক্ষক ও বরিষ্ঠ সাংবাদিক ড. নিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রয়াত গোষ্ঠগোপাল দাসের সহধর্মিনী গীতারানি দাস, বিশিষ্ট অভিনেত্রী মিস্ অরুন্ধতী, স্থানীয় পৌরপিতা অরবিন্দ মিত্র, সঙ্গীত শিল্পী দীপা দাস, সত্যরঞ্জন মন্ডল, প্রতিবন্ধী সঙ্গীত শিল্পী মিহির পাল এবং শিশু শিল্পী অনুষ্কা ঘোষ সহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, হুগলি থেকে আগত সাত বছরের অনির্বাণ রায়, আঁড়বাঁশী বাজিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে দেয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউল ও লোকসঙ্গীতশিল্পী গনেশচন্দ্র রায় বাউল। অনুষ্ঠানকে ঘিরে উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে বাসন্তী দাস, বিমল বিশ্বাস, হাড়োয়া থেকে অষ্টপদ দাস, এবং নদিয়া জেলা থেকে সত্যরঞ্জন মন্ডলের বাউল সংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

![Samsung [CPS] IN](https://www.hnexpress.in/wp-content/uploads/2020/09/samsung_banner.jpg)
