HNExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার প্রায় দু’মাস পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নবান্ন থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যের যে, সমস্ত ব্রিজ, উড়ালপুল সহ আন্ডারপাস গুলি কি অবস্থায় রয়েছে তা যেন অবিলম্বে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই নির্দেশিকা অনুসারে মাঝেরহাট ব্রিজ সম্পর্কে পূর্ত দপ্তর ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দিয়েছিল। কিন্তু তার দুই মাসের মধ্যেই ব্রিজের একাংশ ভেঙে গিয়ে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয় এবং এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী গতকালই বলেছিলেন সেতু ভাঙার পেছনে গাফিলতি অস্বীকার করতে পারে না পূর্ত দপ্তর। অভিযোগ করা হয় এদের গাফিলতিতেই মেরামতি হয়নি মাঝেরহাট সেতুর। যার ফলে গিয়েছে ৩টি প্রাণ। অনির্দিষ্টকালের জন্য কলকাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বেহালা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট সেতুর একটি অংশ। তাই মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় পূর্বেই পূর্ত দপ্তরের গাফিলতি সামনে এসেছে। এবার সেই গাফিলতির কারণে ৮ জন ইঞ্জিনিয়ার ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিককে দোষী সাব্যস্ত করা হলো। আর এই বিষয়ে সীলমোহর দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে দায় মেট্রো রেলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে গিয়েও ওই এলাকায় জোকা – বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের কাজের জেরে ঝাঁকুনিতে সেতু ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার তদন্তে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কমিটির তদন্তের উঠে আসে, পূর্ত দফতরের গাফিলতিতেই ভেঙে পড়েছে সেতু। শুক্রবার নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যের গাফিলতির কথা স্বীকারও করে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে উঠে আসে পূর্ত দফতরের কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতি ও অর্থ দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের অবহেলায় ঘটেছে এই কাণ্ড। পূর্ত দফতরের ৫ ইঞ্জিনিয়ার ও অর্থ দফতরের ৩ আধিকারিককে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

![Samsung [CPS] IN](https://www.hnexpress.in/wp-content/uploads/2020/09/samsung_banner.jpg)
