মাইগ্রেন এবং তার হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কীয়

শরীর-স্বাস্থ্য

ডাঃ তারক মজুমদার, উত্তর ২৪ পরগণা : বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে সময়েরসাথে পাল্লা দিয়ে ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতায় আমাদের যখন নাভিশ্বাস । অনিয়মের বাড় বাড়ন্তে কম বেশী সকলেই অবগাহন করছি,ঠিক সেই সময়েই মাথা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। মাথা ধরা নিয়ে কিংবা মাথা ব্যথা নিয়ে কষ্ট পান নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর । তবে এটা ঠিক যে ,কিছু কিছু মানুষের মাথার অর্ধেক অংশ জুড়ে মাসে ২–৩ বার যন্ত্রণা হয়ে থাকে। কারো সাথে সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে না। এই ধরনের কষ্ট বা যন্ত্রণা কেই “মাইগ্রেন ” বা আধকপালে বলে।

মাইগ্রেন কী ?

আসলে আমরা “মাইগ্রেন ”বলতে বুঝি মস্তিষ্কের খুলির ভিতরে এবং বাইরে কিছু শিরার প্রদাহ । প্রথমতঃ খুলির ভিতরের অংশে রক্ত প্রবাহের সংকোচন ঘটে। পরে তার আধিপত্য বিস্তার করে খুলির বাইরের অংশে,এবং ধমনীর দেওয়ালের সংযোগ রক্ষাকারী স্নায়ু গুলোর শেষভাগ উত্তেজিত ও প্রসারিত হয়। ফলে পেশীর সংকোচন ঘটে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ভাবে হতে পারে না। স্বাভাবিক ভাবে মস্তিষ্কের ভিতরে কোন অস্থিরতা সৃষ্টি হলে রক্ত প্রবাহের ব্যাসের তারতম্য ঘটে। তারফলে মস্তিষ্কের বাইরের শিরা ফুলে ওঠে ওদপদপ করে। মস্তিষ্কের স্নায়ুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। প্রদাহ কার করো একনাগারে হতে থাকে ।

কারণ কী ?

এই রোগর কারণ হয়তো সে ভাবে বলা যায় না। তবে কিছু কাছু কারণ আছে যার ফলে “মাইগ্রেন ”বা আধকপালে হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ থাকে।
১)অত্যধিক মানসিক চাপ। উদ্বেগ আবেগ মানসিক অস্থিরতা ।
২)মাথায় কন আঘাত কিংবা টিউমার ।
৩)শরীরের প্রতি অনিয়ম ,ঋতুবন্ধ,কোন ভয়।
৪)প্রচন্ড রৌদ্রে বেশী থাকা। রক্তের চাপ বেশী হওয়া।
৫)বংশগত কারণ ।

লক্ষণ কী কী ?

১)যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পূর্বে, ঠিক ঘুম থেকে ওঠার পরেই চোখের সামনে কালো কালো অংশ দেখা।
২) চোখ দিয়ে জল পড়া। জিভ টা ঝিন ঝিন করা । আলো অসহ্য।
৩)চোখে যন্ত্রণা হওয়া ।
৪)মাথার যে দিক টা পূর্বে শুরু হয়েছিল,পরে ঠক সেই জায়গাতেই যন্ত্রণা শুরু হবে।
৫)মাথার যন্ত্রণা যতই তীব্র হব,বমি বমি ভাব ততটাই বেড়ে যাবে।
৬)মাথার যন্ত্রণা প্রথমে মাথার অর্ধেক টা অংশ জুড়ে হলেও পরে তা পুরো মাথায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
৭)মাথায় যন্ত্রণা অনেক সময় ১২–১৫ ঘন্টা ও হতে পারে।
৮)মাথার যন্ত্রণার ফলে কপালের উভয় দিকে ক্যারোটিড এবং সুপার ফিসিয়াল টেম্পোরাল ধমনী দপদপ করতে থাকে ।
৯)রোগীর অসহ্য যন্ত্রণা সহ খাওয়ায় অরুচি এবং যন্ত্রণা থেকে মক্তি পেত অন্ধকার ঘরে চুপ করে শুয়ে থাকতে চায়।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা হল লক্ষণ গত চিকিৎসা পদ্ধতি । রোগীর লক্ষণ গত ও ধাতুগত চকিৎসায় এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। এই রোগে বিভিন্ন ঔষধ আছে। তবে কখনোই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাওয়া উচিৎ নয়।