ফের অটো চালকের দৌরাত্ম্যের শিকার জনৈক মহিলা সাংবাদিক

ক্রাইম

HNExpress অলোক আচার্য, মধ্যমগ্রাম : অটোচালকের সাথে বচসার জেরে প্রায়ই ঘটে থাকে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির মত অনেক ঘটনা। এবার এরকমই একটি ঘটনার ভুক্তভোগী হলেন জনৈক মহিলা সাংবাদিক তথা এইচ. এন. এক্সপ্রেস অনলাইন মিডিয়ার ফাউন্ডার ও এডিটর ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত।

গতকাল দুপুরে প্রায় ১:৩৫ নাগাদ নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ অনুষ্ঠান এর কভারেজ সেরে ফেরার পথে সাংবাদিক ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত বিটি রোড থেকে মধ্যমগ্রামগামী এক অটোয় উঠতে গেলে অটোচালক তাকে সামনের সিটে এসে বসতে বলেন এবং রাস্তায় আরেকজন মহিলা যাত্রীকে স্টপেজ থেকে তোলার সময় ইন্দ্রাণীকে তার পাশে সরে এসে বসতে বলেন, কিন্ত তিনি ওই ভাবে বসতে অস্বীকার করেন এবং বসতে রাজি না হয়ে প্রতিবাদ করেন। আর তখনই সেই অটোচালক তাতে হঠ্যাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ও অনেক আজেবাজে কথা ও অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। এরপর অটো চালক ঘোলা থানার সামনে ইন্দ্রাণী ছাড়া আর সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর অটোটাকে প্রায় আধ ঘন্টার মত ফাঁকা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখেন আরও যাত্রী পাওয়ার মিথ্যে আশায়।

এদিকে পেশাগত কারনে ইন্দ্রাণী দেবী আরেকটি কভারেজের কাজে যাওয়ার জন্য অটো চালককে তাড়া লাগাতে থাকলেও অটোচালক তাতে কর্ণপাত করেনই না, উল্টে ওই মহিলা সাংবাদিককে বাজে ভাষা প্র‍য়োগ করে উতক্ত্য করতে আরম্ভ করেন, সাথে হুমকি সহ এও বলেন “অনেক সাংবাদিক, রিপোর্টার আমার দেখা আছে, তুই যা পারিস করে নেন, আমার টাকা চাই তাই অটো ভর্তি না হওয়া অব্দি গাড়ি ছাড়ব না“। সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিতেই থাকেন ইন্দ্রাণীকে।

তারপর প্রায় ২:৪৫ নাগাদ মধ্যমগ্রাম পৌঁছে ইন্দ্রাণী ওই অটোচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে অটোচালক ও তার গাড়ির নাম্বারপ্লেটের ছবি তুলতে যান। তৎক্ষণাৎ অটোচালকটি সেটা লুকিং গ্লাসে দেখতে পেয়েই তড়িঘড়ি পালাতে গিয়ে রাস্তার পথচলতি এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন, একটুখানির জন্য ছেলেটির পা জখম হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু ছেলেটি এই দুর্ঘটনাটির শিকার হওয়ার কারনে অটো চালককের সাথে বচসায় জড়িয়ে যান, আর এদিকে অটো চালকটি নিজের ভুলের ক্ষমা না চেয়ে উলটে সেই ছেলেটিকেই মারতে উদ্ধত হলে ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো সাংবাদিক ইন্দ্রাণী পেশাগত কারনে ও অমানবিকতার প্রতিবাদে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তোলে। যার কারনে সেই অটো চালকটি ও তার এক সঙ্গী ইন্দ্রাণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা স্বরূপ তাঁর উপর হামলা করে এবং প্রচণ্ড মারধোর করে তার হাত থেকে ক্যামেরা ফোনটি বলপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নিজের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে ও বেকায়দায় অটো চালকের ঘুষিতে হাতে চোট পান ইন্দ্রাণী।

ওই পরিস্থিতিতে সে মধ্যমগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তারা অভিযোগ না নিয়ে তাকে ট্রাফিক ওসির কাছে পাঠান। আবার ট্রাফিক ওসিও অভিযোগ না নিয়ে তাকে থানায় জানাতে বলেন।

পুলিশের এই উদাসীনতায় ও অসহযোগীতায় এবং অযথা হ্যারাসমেন্টে তিতিবিরক্ত হয়ে তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহার পথ না দেখে শেষে সিপিডিআর হিউম্যান রাইটসের বারাসাত মধ্যমগ্রাম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের নিজের হেনস্থার ঘটনা বলে তাদের দ্বারস্থ হলে, তারা তাকে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে থানায় নিয়ে আসে অভিযোগ দায়ের করতে। কিন্তু তারপরেও থানা কিছুতেই ইন্দ্রাণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এফ আই আর দায়ের না করে থানার বড়বাবুর আদেশে সাধারণ ডায়েরি করতে যায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তারা এবং মধ্যমগ্রাম সৃষ্টির পথে নামক একটি সেচ্ছাসেবী সংস্থার সমাজসেবী নুপূর ঘোষ বড়বাবুকে এফ.আই.আর এর জন্য অনুরোধ করলেও তিনি তাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে ও কুকুর বিড়ালের মত ব্যবহার করে থানা থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেন। তখন ইন্দ্রাণী বাধ্য হয়ে থানার সামনেই তার উপর ঘটে যাওয়া অবমাননার সমস্ত ঘটনা ও পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে থানার সামনে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও রেকর্ডিং করে সমস্ত প্রেস মিডিয়াকে পাঠাতে শুরু করলে থানার টনক নড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে থানা সেই অটোচালকের বিরুদ্ধে এফ.আই.আর কেস গ্রহণ করে। পরে থানা থেকে জানা যায় যে, ওই পেশায় অটোচালকের নাম শিবু সাজিরহাট তালবান্দা কলোনির বাসিন্দা। অটোর নম্বর : WB25 C 6372। কাঁচকল রুটের অটো চালায় সে।


তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল যে, এমন একটি নিন্দনীয় ঘটনার এত কিছু প্রমাণ থাকার পরেও ঘন্টার পর ঘন্টা সেই অভিযুক্ত ছিল অধরাই, অন্যায়ের প্রতিবাদে অটল থেকে বহু যুদ্ধের পর কি আসামি সত্যি সাজা পাবে এমন ঘৃণ্য অপরাধের জন্য। সুত্রের খবর, আজ বেলায় তাকে গেপ্তার করে কোর্টে চালান করে পুলিশ। কিন্তু তা স্বত্বেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, “একজন সাংবাদিককে যদি দিনে দুপুরে অটোচালকের এমনতর হেনস্থার শিকার হতে হয় এবং ঘটনার বিবরণ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে থানার পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরেও তারা যদি অসহযোগীতা করেন তাহলে সেখানে এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? তারা আজ যদি বিপদে বিপাকে পরে তবে কাদের দ্বারস্থ হবেন ? কে বাঁচাবে তাদের প্রাণ -মান-সম্মান ?”