HNExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ আগুন লাগে মধ্য কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিটের বাগরি মার্কেটের একটি ছ’তলা বাড়িতে। রাস্তার ধারেই ল্যাম্প পোস্ট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে দ্রুত। দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকলে। তবে ভোরের আলো ফোটার পরেও এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় নি। প্রায় ১১ ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে কিন্তু আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নি দমকল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুধু এই বাড়িটিতেই হাজার খানেক দোকান ছিল পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। কিন্তু পরে জানা গেছে রাত আড়াইটে নাগাদ মার্কেটের হকার স্টলে একটি পারফিউমের দোকানে আগুন লাগে। পারফিউমের দোকানে একের পর এক ডিওড্রেণ্টর ক্যান ফাটে। মার্কেটের ভিতরে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। ছড়িয়ে পড়তে থাকে আগুন। মার্কেটে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিন তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাত থেকেই জোর কদমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সকালের দিকে মার্কেটের ছ’তলায় আগুন ছড়িয়ে প়ড়ে। জানা গিয়েছে,আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক দমকল কর্মী। দমকল ও পুলিশ সূত্রে খবর, দমকলের ৩০টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মেয়র তথা দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়, পুলিশ কমিশনার-সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। সামান্য পারফিউমের দোকানের আগুন রীতিমতো আগ্নেয়গিরির চেহারা নেয় বাগরি মার্কেটে। দমকল কর্মীদের দাবি, এত বড় মার্কেটে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। মার্কেটের কর্মীরাও সেকথা জানিয়েছেন। যদিও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যে সঠিক ছিল না, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘নিজে এসেছি, বারবার সতর্ক করেছি। তবুও ওঁদের টনক নড়েনি।’ কিন্তু নন্দরাম মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়েও কেন অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এশিয়ার এত বড় মার্কেটে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দমকলকর্মীরা বাড়িটির জানলা ও শাটার ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেই স্থানীয়দের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে বাড়িটির দেওয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবল আগুনের জেরেই এই ফাটল। বাড়িটির অবস্থা খুব ভালো নয়। এলাকাটি ঘিঞ্জি হওয়ায় মই লাগিয়ে দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগুনের জেরে প্রাণহানির খবর এখনও পর্যন্ত নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। মার্কেটের ভিতর কেউ আটকেও নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল।”

![Samsung [CPS] IN](https://www.hnexpress.in/wp-content/uploads/2020/09/samsung_banner.jpg)
