সম্পাদকীয় : দর্শকের আসনে – নিরব প্রশাসন

ক্রাইম সম্পাদকীয়

সম্পাদিকার কলমে,

আর একটা নির্ভয়া কান্ড যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে। পাড়ার উটকো ছোকরা -রা যখন পাড়ার মা বোনেদের সম্মান রক্ষায় ভক্ষক হয়ে উঠছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। প্রসঙ্গত, রাত বাড়তেই পাড়ার রকে বসে উটকো ছোকরা-রা আকন্ঠ মদ গিলে রাতে পাড়ায় চলাফেরা করা মা বোনেদের টোন টিটকিরি করা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা যেন তাদের রোজকার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামের কদমতলা বাজার এলাকার (শ্রীনগর ২নং গেট) পাড়ার অধিকাংশ বাড়ির মেয়েরা রাতের সিপ্টে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন। রাত বিরেতে তাদের অফিস থেকে ফিরতে হয়। বাড়িমুখো হওয়ার পথে তাদের সম্বল ভাড়ার ট্যাক্সি অথবা ওলা উবেরের গাড়ি, কখনোবা অফিসের গাড়ি। এই গাড়িগুলো তাদের রাস্তার মোড়ে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পাড়ার গলি থেকে তাদের পায়ে হেটেই ঘরে ফিরতে হয়। আর সে পথেই পাড়ায় কিছু উটকো মাতাল অঞ্জাত ছোকরা -রা মেয়েদের ইভটিজিং করে চলছে প্রতিনিয়ত। প্রাণ ও আত্মসম্মানের ভয়ে তারা কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পায়না। কারন যে কোনো মুহূর্তে তারা ঐ হিংস্র জানোয়ারদের হাতে শিকার হতে পারে তাই কোনোরকমের জবাব না দিয়ে তারা সবার অলক্ষে চোখ মুছতে মুছতে বাড়িতে ঢুকে যায়। এই এলাকায় মাঝে মধ্যে পুলিশ ভ্যান টহলদারি দিলেও কোনো এক অজানা কারনে উটকো ছোকরাদের সাতখুন মাপ হয়ে যায়। সমস্ত ঘটনায় প্রশাসনের চরম নিস্কৃিয়তার বারবার অভিযোগ উঠছে। তাছাড়া, ছোকরাগুলোর যে কিছু হাইলাইট রাজনৈতিক দলের সাথে যোগসাজশের বিষয়টি কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়। তারা সেসব দল থেকে প্রশয় পাচ্ছে কিনা তা বড্ড সংশয়ের। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে এমন জঘন্য ও নিন্দনিয় ঘটনার সাক্ষি রইলো অত্র এলাকার একজন সম্মানীয়া মহিলা সাংবাদিক তথা নিজস্ব মিডিয়া হাউসের সম্পাদিকা। প্রত্যেকদিনের মতো এদিনও তিনি পেশার তাগিদে একটু রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পাড়ার গলিতে ঢুকতেই তাকে নিয়ে ঐ অঞ্জাত উটকো মাতাল ছোকরা -রা অশ্লীল মন্তব্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং তাদের কথার উত্তর না দেওয়াতে তাঁকে তার বাড়ি অব্দি ধাওয়া করে পিছু নেয়। এদিকে মহিলা সাংবাদিকটি নিজের সাহসিকতায় ভর করে অন্যায়কে অগ্রাহ্য করে ইতিমধ্যে তার ফোন থেকে মধ্যমগ্রাম থানার ওসিকে ফোন করার মুহূর্তে উটকো ছোকরাদের মধ্যে একজন বলে উঠে “আরে ওনার সঙ্গে পাঙ্গা নিসনা কেস খাবি, সাথে সাথে আরেকজন অতি অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে বলে ওঠে “দুর কিসের কেস”। কিন্তু দ্বিতীয় ব্যাক্তির সতর্কবার্তা শুনে সে সময় তারা যথাস্থান ত্যাগ করলে মহিলা সাংবাদিক বেঁচে যান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মহিলা সাংবাদিক ঐ পাড়ার বহুকাল পুরানো বাসিন্দা, তাহলে অজ্ঞাত ছোকরাগুলো কি করে সাহস পায় পাড়ার মহিলাদের এভাবে অশ্লীল মন্তব্য করতে বা তাদের দিকে নোংরা ইংগিত করে ছুটে আসতে? প্রশাসনের লোকেরা কি এসব কিছুই দেখেন না বা শোনেন না? নাকি তারা রাজনৈতিক দলের রঙ্গীন চশমা পড়ে অন্ধ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, আজ মহিলা সাংবাদিকের সাথে এমন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে কাল আপনার বাড়ির মা বোনেদের সাথে এরকম জঘন্য ঘটনা ঘটবেনা সে বিষয়ে কে বা কারা বলতে পারে? তাই অতিস্বত্তর প্রশাসন তথা এলাকাবাসীর  এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে হয়তো দিল্লীর নির্ভয়া কান্ডের পুনরাবৃত্তি এবার মধ্যমগ্রামের কদমতলায় হতে পারে।