ওয়েবডেস্ক নিউজ : ডিম ছাড়া বাঙালির রসনা যেন অতৃন্ত৷ কিন্ত্ত রাজ্যে উৎপন্ন ডিম দিয়ে চাহিদার পুরোটা পূরণ হয় না৷ বঙ্গবাসীকে তাই ভিন্ রাজ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়৷ ডিমের এই ঘাটতি মেটাতে রাজ্যে এ বার প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ করে দু’টি ‘লেয়ার হাউস’ বা মুরগি খামার বানানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার৷ সব ঠিক থাকলে এ বছরই সেখানে ডিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে৷নবান্ন ডিম উৎপাদনের জন্য নদীয়ার কল্যাণী এবং বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় দু’টি আন্তর্জাতিক মানের মুরগী খামার বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য লাইভ স্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন৷ তার মধ্যে কল্যাণীতে মুরগী খামার নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে৷ এ জন্য খরচ হবে প্রায় ২৮ কোটি৷
কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কৃষি বিমা যোজনা থেকে এই টাকা দেওয়া হবে৷এ ছাড়া , রাজ্যে চিকেনের উৎপাদন বাড়াতে জলপাইগুড়িতে তৈরি হচ্ছে নতুন পোলট্রি ফার্ম৷ এতে খরচ হবে ৩০ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা৷ এই প্রকল্পে অর্থ জোগাতে নাবার্ড থেকে ঋণ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ মোট ৩ কোটি টাকা খরচ করে হরিণঘাটায় তৈরি হচ্ছে গোট স্লটার লাইন৷ এখান থেকে ছাগলের মাংস পাওয়া যাবে৷লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের অধিকর্তা জানান, কল্যাণী এবং বড়জোড়া, দুই জায়গাতেই ৩ লক্ষ করে মোট ৬ লক্ষ মুরগী রাখার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকবে৷ সেখানে গড়ে রোজ ৩ লক্ষ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ ভবিষ্যতে সরকারি খামার থেকে দিনে গড়ে ৫ .৫ -৬ লক্ষ ডিম পাওয়া যাবে৷সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রাজ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষের মতো ডিম উৎপন্ন হয়৷ সে জায়গায় দৈনিক ডিমের চাহিদা প্রায় আড়াই কোটি৷ তা মেটাতে তামিলনাড়ু , অন্ধ্রপ্রদেশের মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে ডিম আনতে হয়৷ সেখানে ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হলে রাজ্যে ডিমের দাম যায় বেড়ে৷
স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে আরও প্রায় ৯০ -৯৫ লক্ষ বাড়তি ডিম উৎপাদন করতে হবে রাজ্যকে৷ সে জন্য সরকারি খামারে ডিমের বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করা ছাড়াও হাঁস -মুরগি প্রতিপালনে বেসরকারি পোলট্রি ফার্ম এবং গ্রামীণ চাষিদের উত্সাহিত করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী৷তিনি জানান , ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে গ্রামের চাষি এবং স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরকার হাঁস ও মুরগির বাচ্চা বিলি করছে৷ চাষিরা যাতে সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পান , সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ চলতি আর্থিক বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা বিলি করা পরিকল্পনা প্রাণিসম্পদ দন্তরের৷ হাঁস -মুরগি চাষ করার জন্য মোট ৭ হাজার স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীকে মোট ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে৷
ডিম উৎপাদকদের সরকারি উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে৷ কোনও চাষি যদি ১০ হাজার মুরগি কিংবা হাঁস চাষ করেন , তা হলে তিনি সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎসাহ ভাতা পাবেন৷ বীরভূমের লাভপুরে তৈরি হচ্ছে হাঁসের খামার৷ ওই জেলার বরোমোল্লায় মুরগী খামার তৈরি হবে৷

![Samsung [CPS] IN](https://www.hnexpress.in/wp-content/uploads/2020/09/samsung_banner.jpg)
