ছত্তিশগড়ে আত্মঘাতী ব্যবসায়ী, মৃত্যুকালীন অডিও ক্লিপে দায়ী করলেন GST ও নোটবাতিলকে

রাজ্য

সমীর দাস, ছত্তিশগড় : ছত্তিশগড়ে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যবসায়ী। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে আত্মঘাতী হন ৫৫ বছর বয়স্ক মহাবীর চৌরাদিয়া। মৃত্যুর আগে করা এক অডিও ক্লিপে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি GST ও ডিমনিটাইজেশনকে দায়ী করেছেন। ওই অডিও ক্লিপে তিনি জানান, ডিমনিটাইজেশনের জন্য তাঁর আয় কমে গেছে যার ফলে ধার শোধ করতে পারছেন না। এছাড়াও তিনজন ব্যবসায়ীর নাম তিনি করেছেন, যারা তাঁর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে শোধ করছেন না। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিসগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলাতে।

আত্মহত্যার আগে তিনি একটি সাড়ে-তিন মিনিটের অডিও-ক্লিপ রেকর্ড করেছেন ও নিজের ছবি তুলেছেন। এই ছবি ও অডিও-ক্লিপটি তিনি তাঁর সমস্ত ব্যবসায়ী বন্ধুদের পাঠিয়েছেন। এই অডিও-ক্লিপে তিন জন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ীদের নাম উল্লেখ করেছেন মহাবীর, যাদের জন্য তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন বলে মৃত্যুর আগের জবানবন্দীতে জানিয়েছেন তিনি।

পেশাগতভাবে মহাবীর ছিলেন একজন ফিনান্স-ব্রোকার। বিশাল অঙ্কের টাকা রাজনন্দগাঁও-এর কয়েকজন ব্যাবসায়ীকে ধার দিয়েছিলেন তিনি। মহাবীর দাবী করছেন যে, ওই তিন জন ব্যবসায়ী তার প্রায় ৭০-৭৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না এবং হয়রান করছে। যার ফলে তিনি তার জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মহাবীর তার অডিও-ক্লিপে বলেছেন, “আমি আত্মহত্যা করতে বদ্ধপরিকর। আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। GST ও ডিমনিটাইজেশন খুব খারাপভাবে আমার আয়ে প্রভাব ফেলেছে। দু’জন ব্যবসায়ী আমার সমস্ত টাকা নিয়ে নিয়েছে। আমার টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য আমি ঋণের টাকা শোধ করতে পারছি না। লোন শার্কদের এই ধমক ও হয়রানী আর নিতে পারছি না। যারা আমাকে বিশ্বাস করে টাকা ধার দিয়েছিল আমি তাদের মুখোমুখি হতে পারছি না। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি আমার পরিবারকে একটু সাহায্য করতে। আমার পরিবার সমস্ত ঝণ শোধ করে দেবে।”

রাজনন্দগাঁও এর SP, প্রশান্ত আগরওয়াল বলেছেন, এই অডিও-ক্লিপটা ছড়িয়ে পড়তেই মহাবীরের পরিবার থানাতে অভিযোগ জানায়। তদন্তকারী অফিসাররা মহাবীরের দেহ রেলওয়ে ট্রাকের ওপর থেকে উদ্ধার করেছে।

অডিও-ক্লিপের ভয়েসটি মহাবীরের কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে পুলিস। যে তিনজন ব্যবসায়ীর নাম মহাবীর বলেছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে।

মহাবীরের পরিবার থেকে জানা গিয়েছে, মহাবীর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ধার করেছিলেন এবং ধার শোধ করতে না পারায় মারাত্মক চাপের মধ্যে ছিলেন।